Friday, November 2, 2012

মেঘের কোলে রোদ-১( ধারাবাহিক উপন্যাস)

মেঘের কোলে রোদ-১(ধারাবাহিক উপন্যাস)

রফিকদের বাড়ির সামনে দুটো কুকুর ঝগড়া করছে। মেজফুপু
বলে, ভাদর-আশিনের কুকুর বাঘের চেয়ে মারাত্মক।
হায়দার থামলো। তাকে থামতে দেখে বিরক্ত হলো রোমিলা। বলল,
কি হলো ভয় পেলেন নাকি?
--- হ্যাঁ, পেয়েছি। তবে কুকুরের কামড়ের চেয়ে ইনজেকশনের ভয়
বেশী। বলে মৃদু হাসলো হায়দার।
রোমিলা বিরক্ত হয়ে বলল,নিন, সরুন,আমাকে যেতে দিন, আমার
দশা এখন কুকুর-বেড়ালের চেয়ে খারাপ। আমি আগে যাই,কামড়ায়
তো আমাকেই কামড়াক।
এতক্ষণ ঝগড়া করছিল দুটি মাত্র কুকুর। এখন তাদের ডাক শুনে
ছুটে এসেছে আরো কয়েকটি। তারা বিভিন্ন ভাবে হম্বিতম্বি করে
জানান দিচ্ছে, আমরা এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পিছপা নই।
হায়দার অবাক হয়ে দেখল, রোমিলা নামের মেয়েটি বেশ
সাহস ভরে তাদের পাশ কাটিয়ে গেল।
রফিকদের বাড়ির সামনের রাস্তাটা বেশ ছোট। গলিপথ বলাই ভাল।
সেখানে কুকুরদের বিক্রম জাহির হচ্ছে অনেকখানি জায়গা জুড়ে।
দাঁত,নখ ও তর্জন-গর্জনের মাধ্যমে কে কার ঘাড়ে পড়ে জায়গা
বদল করছে বোঝা মুশকিল।
হায়দারের হতভম্ব দশা দেখে রোমিলা হাসছে। তার হাসি দেখে
মনে মনে যথেষ্ট বিরক্ত হচ্ছে হায়দার। মনে হচ্ছে, ওই মেয়েটির
কুৎসিত হাসি দেখার চেয়ে কুকুরের কামড় খাওয়া শ্রেয়।
মন্ত্রমুগ্ধের মত যুদ্ধরত কুকুরদের অতিক্রম করে গেল হায়দার।
তার আগে অবশ্য বেশ কয়েকবার দোয়া-দরুদ পড়ে নিয়েছে
সে । স্বল্প পরিচিত মেয়েটির হাসিটা তার একেবারে সহ্য হচ্ছিল না।
---দেখলেন তো, ভয় করলে আরো অনেক ভয় আপনাকে আঁকড়ে
ধরবে।
---হুম। বলে চুপ মেরে গেল হায়দার। মনে মনে বলল, তুমি যে খুব
সাহসী মেয়ে, সে তো তোমার চালচলন দেখে বুঝেছি। এখন তোমাকে
ঘাড় থেকে নামাতে পারলে বাঁচি।
--- আর কত হাঁটতে হবে বলুন তো, বাবারে পা দুটো বোধয় খসে
পড়বে এবার।
--- এই তো এসে গেছি, শিবমন্দিরের পাশে তপতীদের বাড়ি। সোজা
চলে যান, এই রাস্তা ধরে।
--- বাহরে আপনি যাবেন না?
বিস্মিত স্বরে বলল রোমিলা।
--- আমি, আমি গিয়ে কি করব ?
--- আপনি কিছুই করবেন না, আমি কি করছি সেটা দেখবেন, এক কাপ
চা খাবেন।
আল্হাদী সুরে বলল রোমিলা।
--- বাস থেকে নামার সময় এমন কোন কথা ছিল না। তাই আমি আপনার
সঙ্গে যাচ্ছি না। আর চায়ের কথা বলছেন, আপনার ভাগ্যে চা আছে কিনা
দেখুন, কনজুস হিসেবে তপতীর বাবার এলাকা জুড়ে নামডাক আছে।
--- বেশ যান তাহলে।
--- হ্যাঁ, যাই। বলতে গিয়ে বুকে হালকা ব্যথা অনুভব করল হায়দার।
ডানদিকের গলিপথ ধরে ধীর পায়ে হেঁটে চলল সে। একটু আগে অব্দি যে
মেয়েকে তার অসহ্য মনে হচ্ছিল, এখন তার সঙ্গ ছাড়তে কেন এমন কষ্ট
হচ্ছে বুঝতে পারছে না হায়দার।
সে পেছন ফিরে দেখল না, রোমিলা তার ডাগর দুটি চোখ মেলে তার দিকে
চেয়ে আছে অপলক।

No comments:

Post a Comment