Tuesday, November 6, 2012

হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস' নলীনী বাবুর B.scপড়ার পর আমার প্রতিক্রিয়া

হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস 'নলীনী বাবু B.Sc' পড়ার পর আমার প্রতিক্রিয়া

লেখক হুমায়ূন আহমেদের আরও একটি বই পড়লাম । নাম 'নলীনী বাবু B.Sc' । কাকলী প্রকাশনী থেকে বইটি ২০১০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় । বইটি এতদিন আমার পড়া হয়নি, কারণ কোন ফাঁকে এই বইটি প্রকাশিত হয়েছিল সেটি আমি খেয়াল করতে পারিনি । তাছাড়া বইটির কোন পিডিএফ সংস্করণ এতদিনে আমি খুঁজে পাইনি । অবশেষে গতকাল এক বন্ধুর কাছে বইটি দেখতে পেয়ে গতরাতেই পড়ে শেষ করলাম । আমি যে বইই পড়ি, সেই বইটির নাম, লেখক, বইটির মূলবক্তব্য এবং বইটি পড়ার পর আমার মন্তব্য একটা ডায়েরীতে লিখে রাখি । ডায়েরীর তথ্যানুযায়ী(২০১১ ও ২০১২ সাল), এটা আমার পঠিত ১০৩ তম উপন্যাস । বইটি পড়ে গতরাতে ডায়েরীতে আমি যা মন্তব্য লিখেছি সেটিই এখানে তুলে ধরলামঃ
'নলীনী বাবু B.Sc' আমার পড়া হুমায়ূন আহমেদের ফালতু বইগুলির মধ্যে শীর্ষে । ভুল বললাম হয়ত, শুধু হুমায়ূন আহমেদের বইগুলির মধ্যে নয়, আমি এ পর্যন্ত যত লেখকের যত বই পড়েছি, তার মধ্যে বাজে বই হিসেবে এটি সর্বশ্রেষ্ঠ ।
লেখক কি তার বইয়ের পাঠকদের সবাইকে গবেট ভাবেন? ভাগ্যিস, গর্ধবরা আছেন বলেই হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে আছেন । আরও সহজভাবে বললে বলা যায়, কিছু নির্বোধ পাঠকই বাঁচিয়ে রেখেছেন হুমায়ূন আহমেদকে । সত্যিই Parallel World এর জীবদের মতই অসীম ক্ষমতা তাঁর- কীসব ফাউল টপিক নিয়ে আলোচনা করেও তিনি কত পাঠক-পাঠিকা যোগাড় করে ফেলেছেন এবং ফেলছেন! 'নলীনী বাবু B.Sc' পুরো বইটা পড়ে শেষ করতে আমাকে যথেষ্ট সংগ্রাম করতে হয়েছে । অর্ধেক পড়ার পর একবার তো মনেই হয়েছিল বইয়ের বাকী পাতাগুলো ছিঁড়েই ফেলে দিই । কিন্তু বইটির মালিকানা অন্যজনের, তাই প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাজটি করা সম্ভব হয়নি । তবে 'ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়', তাই বইটির আরেকটি কপি কিনে সেটি ছিঁড়ে কুটি কুটি করার পরিকল্পনা আমার রয়েছে । এতে মনটাকে কিছুটা হলেও শীতল করা যাবে ।
কী পেয়ে বসেছেন লেখক? 'কোয়ান্টাম মেকানিক্স'কে কি তিনি একের পর এক আজগুবি সব ব্যাখ্যা দিয়ে পাঠকদের বুঝিয়েই ছাড়বেন? 'কোয়ান্টাম মেকানিক্স' কি তিনি একাই বুঝেন? আর বাকী সবাই বসে বসে ললিপপ্ চুষেন? রহস্য সৃষ্টি করে মানুষকে বিভ্রান্তির মাঝে ফেলে দিয়ে তিনি কি মজা পান নাকি এর মাঝেই নিজের লেখার সার্থকতা খুঁজে পান?
এই বইটি হুমায়ূন আহমেদের না হয়ে অন্য কোন লেখকের হলে সেই লেখকের এরপর আর কোন বই আমি পড়তাম না । কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যতদূর সম্ভব এই লেখকটার সকল বই আমি পড়ব, খুঁজে বের করব, কী এমন আছে তার লেখায় যার মাঝে কিছু নির্দিষ্ট পাঠকগোষ্ঠী এতই মজে থাকেন?
এই বইটায় হুমায়ূন আহমেদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আমি আরও নতুন কিছু জানতে পেরেছি, যা আমাকে বরাবরের মতই অবাক করেছে । তবে সে বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করব না । সেটা লেখকের একান্তই ব্যাপার, যা যেভাবে আছে, সেভাবেই থাকুক ।
পরিশিষ্টঃ মনে রাখবেন, হুমায়ূন আহমেদের সাথে আমার আবার কিন্তু কোনরকম ব্যক্তিগত বিরোধ নেই । আমার মত অতি সাধারণ একজন পাঠকের সাথে তাঁর মত অসাধারণ লেখকের সেরকম কিছু থাকতেও পারেনা, থাকলে এতদিনে আমি বিখ্যাত হয়ে যেতাম । কারও লেখা পড়ে সেই লেখা সম্পর্কে মন্তব্য করাটা পাঠকের একান্তই স্বাধীনতার ব্যাপার, সেটাই করেছি আমি । উপন্যাসটি থেকে মজার কিংবা শেখার বা এজাতীয় কিছু আমি খুঁজে পাইনি । তবে হুমায়ূন আহমেদ বরাবরের মতই এই বইটিতেও ভাষাশৈলীর চমৎকার ব্যবহার ঘটিয়েছেন, যা প্রাঞ্জল ও সহজবোধ্য করে তুলেছে লেখাটিকে । এতটুকু পড়ার পর আমার এই ব্লগ পোস্টের পাঠক-পাঠিকার যেটা জেনে সবচেয়ে অবাক হবেন সেটা হল, আধুনিক লেখকদের মাঝে হুমায়ূন আহমেদ আমার অন্যতম প্রিয় লেখক!

No comments:

Post a Comment